বিএনপি মনে করছে, ইউনিয়ন পরিষদ বহাল রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্ভব নয়। দলটি ফ্যাসিস্ট সরকার বলে আখ্যায়িত করা শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে গঠিত ইউনিয়ন পরিষদগুলো বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। বিএনপির দাবি, এসব ইউনিয়ন পরিষদ প্রহসনের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়, যা বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পার্বত্য জেলাগুলোতে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি বলে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ ধরনের সংঘাত তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এগুলোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। পার্বত্য জেলাগুলোতে শান্তি ফেরাতে একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজনেরও দাবি জানায় দলটি। এই লক্ষ্যে সরকারের কাছে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাজারে হামলা, ভাঙচুর এবং ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সংঘটিত কিছু ঘটনা সরকার পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করছে। শিল্পাঞ্চল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে এবং গণমাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোকে এসব সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রচার বাড়াতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হুমকি দিয়েছেন, সেটিরও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ভারতীয় নেতাদের এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় বিএনপি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের মন্তব্যের নিন্দা জানানোয় সন্তোষ প্রকাশ করে দলটি।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উল্লেখযোগ্য।
.jpeg)

0 Comments