গত এক দশকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আলোচনা এবং বিতর্ক চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে, বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর, ২৫টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে তা হলো- শেখ পরিবারের নামে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শেখ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের নামে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। এ ছাড়া দুইটি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনার নামে এবং আরও দুইটি তাঁর মা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে। অনেকের মতে, শেখ পরিবারের নামে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন নতুন প্রকল্প পাস করানো, যা প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার মান উন্নয়নের চেয়ে নতুন প্রতিষ্ঠানের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা যায়, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা। তবে এই সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞ মহলে সমালোচিত হয়, কারণ তাদের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেয়ে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়ন অধিক জরুরি ছিল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো, শিক্ষক বা গবেষণার সুযোগ তৈরি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে প্রথমদিকে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পড়ছেন নানা ধরণের অব্যবস্থাপনার মুখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার মানের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সুশাসন নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউজিসির চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফয়েজ বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, একই নামে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় বিভ্রাটের আশঙ্কা রয়েছে এবং এটি নিয়ে তারা কাজ করছেন। যদিও ইউজিসির পক্ষে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তারা সরকারের কাছে এ ব্যাপারে সুপারিশ করতে পারে।
সব মিলিয়ে, শেখ পরিবারের নামে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সমাধান করতে হলে সরকারের উচিত হবে বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বিশেষ করে, শিক্ষার মানের উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
.jpeg)

0 Comments